অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটাল আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন লতিবাবাদ ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম শহীদ। তিনি  কিশোরগঞ্জে মো. বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক যুবদল নেতার হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সহিদুল ইসলাম শহীদ সদর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লতিবাবাদ ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান । একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে দাবি করে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

জেলা শহরের গাইটাল আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যুবদল নেতার উপর হামলার ঘটনায় প্রকৃতভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সহিদুল ইসলাম শহীদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, গত ৩১ মার্চ লতিবাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বাবুল মিয়ার উপরে হামলার ঘটনার সাথে তার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমি নিজে জড়িত থাকা তো দূরে থাক, এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। কিন্তু তারপরও কোনো একটি মহল আমাকে এই ঘটনায় জড়িয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। ঘটনার সময় এবং পরবর্তী সময়ে আমি আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিলাম। রাজনৈতিকভাবে আামকে হেয় প্রতিপন্ন করার এবং আমার অর্জিত সম্মান ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যেই এই সাজানো অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সহিদুল ইসলাম শহীদ তার বিরুদ্ধে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্যও সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন উপায়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন, আমি তাদের এই হীন মানসিকতার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, আমি দীর্ঘকাল ধরে জনসেবা ও রাজনীতির সাথে জড়িত। কোনো ধরনের সহিংসতা বা হামলার ঘটনাকে আমি কখনোই সমর্থন করি না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমার আদর্শের পরিপন্থি। প্রসঙ্গত, লতিবাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বাবুল মিয়া গত ৩১ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পাশে তার নিজের রেস্টুরেন্ট ‘নিঝুম রেস্তোরাঁ’য় আক্রান্ত হন। সেখান থেকে তাকে তুলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা ও লোহার রড দিয়ে বাবুলের দুই হাত ও দুই পা লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তাঁর হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তিনি বর্তমানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আহতের বাবা হাদিস মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদসহ ৬ জনের নামাল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। থানায় দায়ের করা এই অভিযোগ ও আহত হয়ে চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা বাবুল মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী গণমাধ্যমে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম শহীদকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান ও ভূমিকা তুলে ধরেন সহিদুল ইসলাম শহীদ।