ইনশাআল্লাহ, আগামী ২০ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলবো। তমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলবো। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যে রাষ্ট্রে কম বেশি প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা দিবে। যে রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি মানুষ, প্রত্যেকটি শ্রেণির মানুষ তাঁর মর্যাদা অনুযায়ী সহযোগিতা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দু:স্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। বর্তমান সরকার আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই পলিসি এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমরা তাদেরকে অর্নাস পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ করে দেব নারীদেরকে।শুধু তাই নয় পাশাপাশি যারা ভালো রেজাল্ট করবে সরকারের পক্ষ থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করব। বাংলাদেশের নারী সমাজ অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে আমরা শিক্ষিত করতে চাইছি। শুধু শিক্ষিত করলে হবে না তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে।যেখানেই থাকুক না কেনো তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের যে সকল কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করব। সরকার গঠনের পরে প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকে ১৩ লক্ষ কৃষকের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিলো মওকুফ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সুবিধার জন্য নয় একই সাথে পানি সরবরাহের সুবিধার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে সেচের পানির ব্যবস্থা আমি করেছি একইভাবে গ্রামেগঞ্জে বসবাস করে মানুষগুলো পানির অভাবে কস্ট যেনো না পায় সেজন্য সারাদেশে ইনশাআল্লাহ আগামী ২০ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব।

তারেক রহমান বলেন, গতকাল আমরা প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার শিক্ষক প্রাইমারি সেকেন্ডারিসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক গত ৪ বছর ধরে ২০২২ সালের পর থেকে তারা তাদের অবসর ভাতা পায় নাই। সে টাকাটা নয় ছয়ভাবে বিগত স্বৈরচারের সময় সেই টাকাটাকে বিভিন্নভাবে আত্মসাৎ করেছিলো। আপনাদের সরকার বিএনপির সরকার গঠন করার পরে গতকাল আমরা ১ লক্ষ ২৩ হাজার শিক্ষকদের আমরা তাদের পেনশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ২ মাস আগে আমরা বাজেট উপস্থাপন করেছি। নিশ্চয়ই আপনারা খেয়াল করেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্য যেগুলো সাধারণ মানুষের সকলের প্রয়োজন সেই ৬০টি পণ্যের ওপর সরকার এই বাজেটে ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছে। যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে না পারে। অতীতে আমরা দেখেছি সবসময় বাজেট দেয়ার পরদিনই সাথে সাথে দেখা যেতো জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছে। এবার কি আগের মতো জিনিসের দাম বেড়েছে। এই কাজটি কেনো করা হয়েছে জনগণের স্বস্তির কথা চিন্তা করেই আজকের বর্তমান সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫৫৩টি উপজেলা আছে প্রত্যেক উপজেলায় এখন যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে এটিকে আমরা ১৫১ বেডের হাসপাতালে রুপান্তর করব। যাতে করে খুব বেশি সিরিয়াস অসুখ না হলে জেলায় যেনো যাওয়া না লাগে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কিছুদিন আগে দেখেছেন চায়নার সাথে চুক্তি হয়েছে চায়না এ দেশে অনেকগুলো মিল কলকারখানা তৈরি করবে৷ যে মিল কলকারখানায় আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা চাকরি পাবে৷ কর্মসংস্থানের সুবিধা পাবে। সেই মিল কলকারখানা যদি তৈরি করতে হয় অর্থ্যাৎ এগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। অবশ্যই দেশের মধ্যে শান্তি রাখতে হবে৷ এখন মানুষ পরিবর্তন চায়।

তারেক রহমান বলেন, আমরা ৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। পরবর্তীতে যখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে জনগণ রাজপথে নেমে এসেছে, আন্দোলন করেছে, বারে বারে গণতন্ত্রকে রক্ষা ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। এখন হচ্ছে আমাদের দেশ গঠন করার সময়। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। সর্তক থাকতে হবে। বিএনপির এই রাজনীতিতে যেনো কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদেরকে সর্তক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কি করেছে। সেই অতীত বিবেচনা করে তাদেরকে আমাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই আমরা ভবিষ্যতে তারা কি করছে সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। আমরা দেখেছি ৭১ এ তাদের ভূমিকা কি ছিলো? ৮৬ সালে তাদের ভূমিকা কি ছিলো? আমরা দেখেছি ৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কি ছিলো? আমরা দেখেছি বিগত ১৭ বছর জনগণের যে আন্দোলন সে আন্দোলনে আমরা তাদের রাজপথে দেখেনি। দেখেছিলেন আপনারা? আন্দোলনে বিএনপির সাথে যে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ছিলো তাদেরই নেতাকর্মীরা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গুম খুনের শিকার হয়েছে৷ আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তাদেরকে আমরা রাজপথে বিগত ১৭ বছর দেখি নাই।

তিনি বলেন, আজকে এরা সংস্কার সংস্কার কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালে সংস্কারের কথা বলেছে। কোথায় ছিলেন আপনারা সংস্কার নিয়ে। সংস্কার এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়া নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আজকে সময় এসেছে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মতোন তাহলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। যে তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি। তোমাদের অতীত আমরা জানি তোমরা অতীতে কি করেছো? তোমাদের কথায় আমরা কান দেব না।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।