একা পেয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে

​কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

​অভিযুক্তের নাম মো. হুমায়ুন (৩০)। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে এবং সম্পর্কে ভুক্তভোগী কিশোরীর চাচাতো ভাই।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর (১৩) পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। অভাব-অনটনের কারণে দ্বিতীয় শ্রেণির পর তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। কিশোরীর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ফরিদপুরের নগরকান্দায় বসবাস করেন। ওই কিশোরী কিশোরগঞ্জের মতলবপুরে তার দাদির কাছে থাকত। এই সুযোগে তাঁর চাচাতো ভাই হুমায়ুন তাকে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিশোরী তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখানো হতো।

গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে প্রতিবেশী ফাতেমা ওরফে পিংকির মা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে হুমায়ুন ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে প্রতিবেশী পিংকির ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায় এবং মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগেও বিভিন্ন সময় হুমায়ুন একইভাবে ওই কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে।

ঘটনাটি কিশোরী তার দাদিকে জানালেও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বা কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গত ২১ এপ্রিল কিশোরী তার ভাবি সুইটি বেগমকে বিষয়টি জানালে তিনি মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী কিশোরীর মাকে সব জানান। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর মা ফরিদপুর থেকে কিশোরগঞ্জে ছুটে আসেন এবং স্বজনদের সাথে আলোচনা করে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কিশোরীর মা আর্তনাদ করে বলেন, “আমার অবুঝ মেয়ের ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আপন জন হয়ে সে যে কাজ করেছে, তার ক্ষমা নেই। আমি চাই পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করুক।”

​এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অভিযুক্ত হুমায়ুনকে আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, ধর্ষণের একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। কিশোরীটির ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।