কিশোরগঞ্জে শীতের তীব্রতা বাড়ায় নিজে উপস্থিত থেকে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ করছেন জেলা প্রশাসক

কিশোরগঞ্জসহ সারাদেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও সূর্যের দেখা মিলছেনা বেশ কিছুদিন যাবৎ। এতে কিশোরগঞ্জ জেলায় অসহায় ও শীতার্ত মানুষের জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের কারণে স্বাভাবিক জাীবন যাবনে জনসাধারণসহ সকলের অবস্থাই শীতে জুবুথুবু। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না গরীব ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হচ্ছেন, তাদেরও প্রচন্ড সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল মানুষরা। কনকনে ঠান্ডায় কাপড়ে জড়সড় হয়ে থাকা এই মানুষগুলোর কষ্ট লাঘবে মানবিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।

শীতবস্ত্র বিতরণের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিনের ন্যায় রবিবার(২৮ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল, মাতৃসদন এলাকা, পাগলামসজিদ এলাকা, হয়বতনগর ফিসারী রোডসহ বিভিন্ন এলাকার শীতার্ত মানুষদের রক্ষা করতে সরকারের পক্ষ থেকে গরম কাপড় হিসেবে কয়েকশত কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় অসুস্থ রোগী, অসহায় পথচারী, থেটে খাওয়া দিন মজুর, রিকশা ড্রাইভাই, কবরের কাজে নিয়োজিত গোর-খোদকসহ শীতার্তদের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসলাম মোল্লাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, বিগত বেশ কয়েক দিন যাবত হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ বেশ কয়েকদিন যাবতই শীতবস্ত্র বিতরণ করছে। আমরা যারা বাসায় থেকে তীব্র শীত অনুভব করছি তাহলে বিভিন্ন স্থানে ছিন্নমূল মানুষরা যারা আছেন তাদের কাছে শীতের তীব্রতা আরও বেশি। এ বিবেচনা করেই যেখানে ভাসমান মানুষ আছে সেখানে আমরা বেশ কিছুদিন যাবৎ কম্বল বিতরণ করছি। শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ পরিচালক, স্থানীয় সরকার (উপ সচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান মারুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস সামাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

সারাদিন সূর্য ঢাকা পড়ায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী মানুষসহ সাধারণ জনগণ ঘরবন্দি থাকতে বাধ্য হন। জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা আশা প্রকাশ করেন, শীতকালজুড়ে এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।