মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করা হবে: তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর যেমন নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, আপনাদের ভোট দিতে দেয় নাই, সেই একইভাবে এবারও একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘প্রবাসী ভাইদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের কথা বলেছিলাম। সরকার সেটা পূরণ করেছে। সবটা না পারলেও অনেকটা করেছে। কিন্তু পত্রিকার খবরে দেখলাম, পোস্টাল ব্যালট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। মা–বোনদের আইডি নম্বর নিচ্ছে, ফোন ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছে।’

তিনি দিবাগত রাত ১২টা ১৭ মিনিটে সভাস্থলে পৌঁছানোর পর সাড়ে ১২টার দিকে বক্তব্য শুরু করেন। এর আগে কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি আসনের দল–মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

’৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় একটি দল দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাদের কারণে এই দেশের লাখ লাখ মা–বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। তারা কী জিনিস, বাংলাদেশের মানুষ দেখে ফেলেছে।

উপস্থিত নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এবার সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গেলে হবে না। এবার ঘুম থেকে উঠতে হবে তাহাজ্জুদের নামাজের সময়। তাহাজ্জুদ পড়ে যাঁর যাঁর ভোটকেন্দ্রে ফজরের জামাত আদায় করতে হবে। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

দেশের মহাসড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে সড়কের দুরবস্থার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। ২০০৫ সালে খালেদা জিয়া যখন সরকারে ছিল, তখন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে সাড়ে চার ঘণ্টা লাগত। আজ লেগেছে ১০ ঘণ্টা। শুধু মহাসড়ক নয়, হাসপাতালে হাসপাতালে ওষুধের অভাব। বিদ্যুৎ থাকে না। ইন্টারনেটের সমস্যা। এর বাইরে আরও সমস্যা আছে। লাখ লাখ তরুণ বেকার। খাল বন্ধ হয়ে গেছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের বড় সেক্টর কৃষি সেক্টর। খালেদা জিয়া সরকার কৃষকদের ৫ হাজার টাকা কৃষিঋণ মাফ করে দিয়েছিল। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা লাগত না। শিক্ষার প্রসারে বিনা মূল্যে বই দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি সভাস্থলে পকেট থেকে কয়েকটি কার্ড বের করে তা উপস্থিত জনতার সামনে দেখান।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই কার্ডগুলো হলো কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সহজে সার ও কৃষিঋণ পাওয়া যাবে। শস্যের ক্ষতি হলে বিমাসুবিধাও মিলবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।’

তারেক আরও বলেন, বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাঁরা দক্ষ হয়ে বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে মা-বোনদের জীবন এগিয়ে নিয়ে স্বাবলম্বী করার জন্য বিএনপি কাজ করবে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করা হবে৷ কৃষকদের জন্য অনেক কাজ হাতে নেওয়া হবে৷ জেলা-উপজেলায় এমনকি গ্রামে রাস্তা অনেক খারাপ৷ এগুলো ঠিক করা হবে জরুরি।

পরে তিনি জনতাকে জিজ্ঞাসা করেন, এই পরিকল্পনা ঠিক আছে কি না। উপস্থিত জনতা একসুরে বলেন, ‘ঠিক আছে।’ এরপর তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বিনা মূল্যে বই, ইমাম‑খতিব‑মোয়াজ্জিনের সম্মানি পেতে হলে ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ অঞ্চল) শরিফুল আলম। তিনি এবার ধানের শীষ প্রতীকে কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তারেক রহমান আসার আগে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের দলীয় প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এম উসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের দলীয় প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ফজলুর রহমান আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় জনসভায় যোগ দিতে পারেননি।