পবিত্র মক্কায় হাজিদের যাতায়াত আরো সহজ করতে হচ্ছে বিমানবন্দর

 মক্কায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছেে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ইতিমধ্যে বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব সরকার। হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এবং পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরবের ‘রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হোলি সাইটসের’ (RCMC) সিইও ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আল-রশিদ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা নিশ্চিত করেছেন।

সালেহ আল-রশিদ জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর কৌশলগত দিকনির্দেশনাগুলোও অনুমোদিত হয়েছে। মক্কার উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা সংস্থার প্রধানের কাছ থেকে আসা এটিই এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। সালেহ আল-রশিদ জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মক্কায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণের গভীর সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত দিকনির্দেশনাগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত।

বিমানবন্দরটির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ এবং পরিচালনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর মডেলটি নির্ধারণ করতে ‘রয়্যাল কমিশন’ (RCMC) বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে।

এই বিমানবন্দর মূলত মক্কার স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিবছর আসা লাখ লাখ হজ ও ওমরাহর যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ডিজাইন করা হয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে নতুন এই বিমানবন্দর জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

কয়েক দশক ধরে সৌদি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ মক্কায় বিমানবন্দর নির্মাণের ধারণাটি নাকচ করে আসছিল। ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং পবিত্র কাবার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের অনুমতি না থাকায় মক্কার সীমানার ভেতরে বিমানবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না।

বর্তমানে আকাশপথে আসা হজ ও ওমরাহর যাত্রীদের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মক্কায় পৌঁছাতে ৮০-৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘ এই যাত্রা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি যাতায়াত ব্যবস্থায় যোগ করে বাড়তি জটিলতা। মক্কায় নিজস্ব বিমানবন্দর নির্মিত হলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগ সৌদি আরবের ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ, যার লক্ষ হজ ও ওমরাহ পালনকারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা। বর্তমানে হজ যাত্রীরা জেদ্দা হয়ে মক্কায় পৌঁছান, যা শহরটি থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে। নতুন বিমানবন্দর চালু হলে এই যাত্রা সময় অনেকাংশে কমে আসবে।

এছাড়া মক্কা মেট্রো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশার কাজও শেষ হয়েছে। এটি পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত দিয়েছেন।

এছাড়া ‘স্মার্ট মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মসজিদুল হারাম এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জামারাত সেতু এলাকায় ভিড় কমাতে পূর্বাভাসভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।