নিখোঁজের ২৪ দিন পর ভুট্টা ক্ষেতে মিলল যুবকের গলিত কঙ্কাল: গ্রেপ্তার ২

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের বাটিবরাটিয়া মাধাই নগর অংড়াইল হাওরের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের বাটিবরাটিয়া উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মো. সিদ্দিক মিয়ার ছেলে আবীর হোসেন (২০)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে একই এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদুল হাসান (২০) এবং তার স্ত্রী খেয়া আক্তার (১৮) কে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ থেকে আবীর নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ১৩ মার্চ তার পরিবার নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন কৃষক ভুট্টা ক্ষেতে গেলে একটি কঙ্কাল দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আবীরের পরিবারকে খবর দিলে তার বাবা ছেলের পরনের কাপড় দেখে কঙ্কালটি শনাক্ত করেন।

মামলা ও থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার আ. রশিদের মেয়ে খেয়া আক্তারের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কেয়াকে নিকলীতে নিয়ে আসে এবং ১৯ জানুয়ারি বিয়ে করে।

মাহমুদুল ও আবীর একই গ্রামের বন্ধু হওয়ায় আবীরের সঙ্গে খেয়ার কথাবার্তা চলত। একপর্যায়ে আবীর ও খেয়ার মধ্যে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর মাহমুদুল আবীরকে হুমকি দেন। এর দুই দিন পর থেকেই আবীর নিখোঁজ হয়ে যান।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের ২৪ দিন পর ভুট্টা ক্ষেত থেকে আবীরের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মাহমুদুল ও তার স্ত্রী খেয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আবীরের বাবা মো. সিদ্দিক মিয়া বাদী হয়ে মাহমুদুল ও খেয়া আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিকলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৪, তারিখ: ০৩-০৪-২০২৬)।

নিহতের কঙ্কাল ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের শুক্রবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।