কিশোরগঞ্জে অনলাইনে জুয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২১ জনকে আটক

অনলাইনে অ্যাপ ব্যবহার করে জুয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্তে ২১ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার রাত ১০টার পর জেলা শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, তরুণদের একটি অংশ স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে। আকর্ষণীয় অফার, বোনাস ও পয়েন্ট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের এসব অ্যাপে যুক্ত করা হচ্ছে। পরে একজনের মাধ্যমে অন্যদেরও এতে যুক্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, কোনো কোনো অ্যাপে ১০০ টাকা জমা দিলে ১০ পয়েন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে ওই পয়েন্টের বিপরীতে বড় অঙ্কের টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এতে অনেকে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অর্থ হারাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি বুঝতে পারেন না।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত স্মার্টফোনে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তবে শুধু লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে প্রতারক বা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। কার সঙ্গে, কী উদ্দেশ্যে এবং কী ধরনের লেনদেন হয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, একই ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার লেনদেন, লেনদেনের বিপরীতে কোনো পণ্য বা বৈধ সেবার তথ্য না থাকা এবং পয়েন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের মতো বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, অনলাইন জুয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্ত শেষে যাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, শুধু অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নয়, এসব অ্যাপ পরিচালনা, লেনদেনের অর্থ সংগ্রহ ও নগদায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক অভিযানে পাওয়া লেনদেনের তথ্য ও ব্যবহৃত অ্যাপের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

আটক ২১ জনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও তদন্ত চলছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।