কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিরোধের জেরে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কয়েক বছর আগের এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে সানি (২২) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের হিজলীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সানি ওই গ্রামের কাতারপ্রবাসী হাদিউল ইসলামের ছেলে।

​এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সানি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার হিজলীয়া দক্ষিণ পাড়া মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল যুবক সানির ওপর হামলা চালান। একই গ্রামের মফিজুলের নেতৃত্বে সানির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

সানির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সানিকে মৃত ঘোষণা করেন। ​নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই থেকে তিন বছর আগে স্কুলে খেলাধুলা নিয়ে মফিজুলের সঙ্গে সানির বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। সেই সময় সানি মফিজুলকে একটি চড় মেরেছিলেন। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার জেরে মফিজুলের মনে ক্ষোভ ছিল। সেই পুরোনো শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে সানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী বলেন, সানি গণঅধিকার পরিষদের শুভাকাঙ্ক্ষী। সে একই গ্রামের সন্ত্রাসী মফিজুলের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। সানি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতো। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার প্রায় ১৮ ঘন্টা চলে গেলেও খুনি মফিজুল এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাকে অতিদ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। ​পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই তরুণকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।