হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদ্রাসায় কৃতি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

শনিবার (১ আগস্ট)  কিশোরগঞ্জ শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদ্রাসায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাদ্রাসার হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। এর আগে মাদ্রাসার প্রধান ফটকে পৌঁছালে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন শিক্ষার্থীরা।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আজিজুল হকের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক এস. এম. তৌফিক উল্লাহর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করা হয় এবং প্রধান অতিথির হাতে তা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং শিক্ষক প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বলেন, হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদ্রাসা কিশোরগঞ্জের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অতীতেও এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষালাভ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শ্রেণিকক্ষ সংকট, বিজ্ঞান ভবনের অভাব, ছাত্রাবাস না থাকা এবং জরাজীর্ণ স্যানিটেশন ব্যবস্থার মতো নানা সমস্যায় ভুগছে।

তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ প্রতিষ্ঠানের একমাত্র খেলার মাঠটি বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট না থাকায় প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিশোরগঞ্জে একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং একটি ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থাকলেও  রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তারা পাচ্ছে না। তাই এটা আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করছি। এছাড়াও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নরসুন্দা নদী পুনঃখননের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নরসুন্দা নদী পুনঃখননের বিষয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর নদী উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। একসময় এ নদী দিয়ে বড় বড় নৌযান চলাচল করত। নদীটিকে আবারও সেই অবস্থার কাছাকাছি ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ ইউ কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি  মো. আনিছুজ্জামান বাবুলসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সবশেষে প্রধান অতিথি মাদ্রাসার ২২০ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন।