মাদ্রাসার হোমওয়ার্ক না করায় শিশু ছাত্রীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালো শিক্ষক

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় হোমওয়ার্ক না করায় মাইশা (৮) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারধরের একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী মাইশার মা মোছা. নাদিরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার সকালে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার দারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়ামত উল্লাহ ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আহত শিশুটির মা মোছা. নাদিরা।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ক্লাস চলাকালে হোমওয়ার্ক না করার বিষয়টি নিয়ে মাইশাকে প্রথমে বকাঝকা করা হয়। পরে শিক্ষক নিয়ামত উল্লাহ তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে মারধরের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে মাইশা অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, পাকুন্দিয়া পৌরসভার উত্তরপাড়া এলাকার মোস্তাকিম হোসেনের মেয়ে মাইশা নিশ্চিন্তপুর এলাকার দারুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে ক্লাস চলাকালে হোমওয়ার্ক না করার কারণে শিক্ষক নিয়ামত উল্লাহ তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, লাঠির আঘাতে মাইশার দুই হাত, ডান উরু, দুই পা ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন, কালশিটে ও ফোলা দেখা দিয়েছে। মারধরের একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেননি বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা। পরে দুপুরের দিকে অন্য এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে খবর পেয়ে মাইশার স্বজনেরা মাদ্রাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা মাইশাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
মাইশার মা মোছা. নাদিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর করে আসছেন। আমার মেয়েকে যেভাবে পেটানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হোমওয়ার্ক না করার জন্য একটি শিশুকে এভাবে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।’
তিনি আরও বলেন, মেয়েকে মারধরের পর বিষয়টি পরিবারের কাছে জানানো হয়নি। অন্য এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা মাদ্রাসায় গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে কিশোরগঞ্জে নেওয়া হয়।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আহত শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবরও নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়ামত উল্লাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়ামত উল্লাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
ঘটনার বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’