টাকার অভাবে ইমরানের মরদেহ আনা গেল না কিশোরগঞ্জে

 

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ ইমরান হোসেন (৩৫) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর টাকার অভাবে তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক রাত ৩টার দিকে সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ইমরান হোসেন। তিনি সুতারপাড়া গ্রামের মৃত মোঃ নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান ইমরান। প্রবাসে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তার আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি অনিয়মিত অবস্থায় সেখানে বসবাস করছিলেন। অনিয়মিত অবস্থায় থাকার কারণে নিয়মিত কাজের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আকামাসহ অন্যান্য জটিলতা সমাধানের জন্য চলতি বছরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন ইমরান। এ লক্ষ্যে স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড়ের উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন ইমরান। তিনি ছিলেন পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরদেহ দেশে আনতে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে, যা বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই পারিবারিক সিদ্ধান্তে সোমবার (২৪ আগস্ট) সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ইমরানের মৃত্যুতে সুতারপাড়া গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসী তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।