কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

পুলিশের বিরুদ্বে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পুরানগাওঁ গ্রামবাসীর আয়োজনে ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময় শিশু মোজাহিদের স্বজনরা জানান, তাসলিমার সঙ্গে পারিবারিকভাবে একই এলাকার মেরাজ মিয়ার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শাশুড়ি তাসলিমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। নির্যাতন সইতে না পেরে সে তার বাবার বাড়ি ফিরে আসে। পরে তার বাবার বাড়ি থেকে তার ৭ মাসের শিশু সন্তান মোজাহিদকে তার স্বামী জোর করে দাদার বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়। পরে তাসলিমা সন্তানকে ফিরে পেতে স্বামীর বাড়িতে তার ভাইকে পাঠালে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরদর্শন করে মেরাজের পরিবারের কাউকে বাড়িতে না পেয়ে। সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে প্রতিবেশীদেরকে বলে যায় পুলিশ।

কয়েকদিন পরে একটি ডোবায় শিশু মোজাহিদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে নিহত মোজাহিদের মা তাসলিমা বেগম পুত্রের মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ওইদিনই তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে তার স্বামী মেরাজকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নামে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহত শিশুর নানা আক্তার মিয়া বলেন, আমার নাতি হত্যা মামলার পর মেয়ের ভাসুর মো. আল ইসলাম মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। হুমকির কয়েক দিন পরে আমাদের পরিবারকে মেরে ফেলতে গভীর রাতে বাড়ি আগুন পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন ওসি মামলা নেননি।

পরে তারা আদালতে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান আসামিদের গ্রেফতার ও মামলার অভিযোগপত্র বাবদ বাদী তাসলিমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় এসআই মোস্তাফিজুর রহমান আসামিদের গ্রেফতার না করে উল্টো আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। এরপর বাদীর স্বাক্ষর নকল করে আসামিদের পক্ষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বাদীর কাছ থেকে টাকা (উৎকোচ) দাবির বিষয় অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে যা সঠিক পেয়েছেন সেভাবেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। বাদীর যদি আপত্তি থাকে তাহলে আদালতে আবেদন করুক।