সংবাদ প্রকাশের জেরে চাঁদাবাজির মামলায় ২৪ দিন ধরে কারাগারে সাংবাদিক

জাতীয় জেলা সংবাদ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জমি নিয়ে দুইপক্ষের মারামারি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জের ধরে প্রভাবশালী একটি পক্ষের রোষানলে পড়ে চাঁদাবাজির মামলায় বিগত ২৪দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন খায়রুল ইসলাম ফকির (৪০) নামে এক সাংবাদিক। ছেলের মুক্তির অপেক্ষায় থেকে দিনের পর দিন চো‌খের জ‌লে বুক ভাসাচ্ছেন বয়োবৃদ্ধা মা নূরজাহান (৭০)। নিরবে অশ্রুপাত করছেন স্ত্রী খোশনাহার আক্তার (৩৩)। বাবার অপেক্ষায় নিদ্রাহীন রাত কাটে একমাত্র কন্যা জান্নাত আক্তার নিপু (১৪) এবং দুই শিশুপুত্র নাঈম হাসান দুর্জয় (১০) ও হুমায়ুন (৫) এর। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি প্রতিহিংসার বলি হয়ে কারাগারে থাকায় পরিবারটিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত নূরু মিয়ার ছেলে। তিনি একটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘নয়া সংবাদ’ এর হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এ রকম পরিস্থিতিতে তদন্তের মাধ্যমে খায়রুল ইসলাম ফকিরকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা থেকে অব্যাহতি ও তার মুক্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরের মা নূরজাহান, স্ত্রী খোশনাহার আক্তার, ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা জান্নাত আক্তার নিপু, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শিশুপুত্র নাঈম হাসান দুর্জয়, প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী শিশুপুত্র হুমায়ুন, ফুফু রাবেয়া খাতুন (৭০) এবং নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আসাদুজ্জামান কিরণ পোল্যান্ড প্রবাসী। মাসচারেক আগে তিনি দেশে এসেছেন। তার সঙ্গে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পরে আসাদুজ্জামান কিরণ ও নজরুল ইসলামের পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এছাড়া উভয়পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে আসাদুজ্জামান কিরণের পক্ষের কিরণের মা সাহেরা খাতুন ও নজরুল ইসলামের পক্ষের নজরুলের স্ত্রী রেখা আক্তার আহত হয়। এর মধ্যে নজরুলের স্ত্রী রেখার অবস্থা গুরুতর ছিলো। পরদিন ২৭শে ফেব্রুয়ারি সকালে একই গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর পর ওইদিনই সকালে আরো বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন। এতে খায়রুল ইসলাম ফকিরের উপর ক্ষিপ্ত হন আসাদুজ্জামান কিরণ। এই ঘটনায় গত ২রা মার্চ হোসেনপুর থানায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কিরণসহ ৮জনের নামে মামলা করেন। এর তিন দিন পর গত ৫ই মার্চ কিরণের পক্ষে একটি কাউন্টার মামলা করা হয়। কিরণের বোন আনুরা (৫৩) বাদী হয়ে হোসেনপুর থানায় ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারিসহ চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। বিত্তশালী হওয়ায় পুলিশকে ম্যানেজ করে কিরণ মামলাটি থানায় রেকর্ড করান। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে। পরিবারের অভিযোগ, শুধু নিজের ক্ষোভ মেটাতে খায়রুল ইসলাম ফকিরকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মারামারিসহ দুই পক্ষের কোনো ঘটনার সঙ্গে খায়রুল সম্পৃক্ত ছিলেন না। শুধু সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের লোকজন জানান, মামলায় সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে আসামি করার পর তিনি গত ৯ই মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তারা সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরের মুক্তি এবং তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে পরিবারটিকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *