কিশোরগঞ্জের সিটিল্যাব হসপিটালে অবহেলা ও গাফিলতিতে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিটিল্যাব হেলথ কেয়ার হসপিটালে চিকিৎসকের অবহেলা ও গাফিলতিতে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত নবজাতক হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মো. নাজমুল ও মোছা. তামান্না আক্তার দম্পতির সন্তান।

ঘটনাটি ঘটে ৬ অক্টোবর বিকালে। ওইদিন রাতেই নবজাতকের মামা মো. হিমেল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ঐদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রসব ব্যথা শুরু হলে তামান্না আক্তারকে প্রথমে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না পেয়ে দ্রুত কিশোরগঞ্জের সিটিল্যাব হেলথ কেয়ারে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের দাবি, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় চিকিৎসক না থাকায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে প্রসূতিকে আটকে রাখে। পরে বিকেল আড়াইটার দিকে এক চিকিৎসক এসে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করান।

নবজাতকের জন্মের পর তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও কর্তৃপক্ষ তা গোপন করে রাখে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দূরে রাখে। একপর্যায়ে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাচ্চাকে বাঁচাতে হলে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।পরিবারের দাবি, এই সময়েই নবজাতক মারা গিয়েছিল।

অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ৯ অক্টোবর রাতে জেলা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে ক্লিনিকের অফিস কক্ষে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চায় এবং নবজাতকের পরিবারের হাতে ৫০-৬০ হাজার টাকার একটি খাম দিতে চায়, যা পরিবার ফেরত দেয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পর্দার আড়ালে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি দফারফা করা হয়েছে।

নবজাতকের বাবা মো. নাজমুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে দরবারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে ক্ষমা চান। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন- তাদের স্টাফদের অবহেলা আছে। আমি তো আর আমার বাচ্চাকে ফেরৎ পাবো না। ক্ষমার উপরে তো কিছু নেই। হাসপাতালের গৌতম বাবু আমাদের একটা খাম দেয়। আমরা নিচে এসে তা আবার ফিরিয়ে দেই।

ঘটনার বিষয়ে সিটিল্যাব হেলথ কেয়ার হসপিটালের ম্যানেজার শহীদ বলেন, দুই পক্ষের সম্মতিক্রমে বিষয়টি শেষ হয়েছে। তবে তিনি মৃত্যু নিয়ে দফারফা হয় কি-না এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্মা বলেন, লিখিত অভিযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের কাছে আসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।